Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ৫ টি প্রাণী

 পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্যের রেকর্ড রাখা শুরু হয়েছিল ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে। এর আগে কোন দেশেই করা হয়নি জীববৈচিত্র্যের তালিকা। 


এখনও বিশ্বের বহু দেশে নেই জীববৈচিত্র্য রেকর্ডের ব্যবস্থা। আর বর্তমান সময়ে জীববৈচিত্র্য পড়েছে মহা সংকটে। ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে তালিকাভুক্ত অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদপ্রাণী। 


আবার এমন অনেক প্রজাতি আছে যা এখনও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি কিন্তু অনেক অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও রয়েছে এমন কিছু প্রজাতি। আমরা আজ বিলুপ্তপ্রায় পাঁচটি প্রাণীর সম্পর্কে সংক্ষেপে জানবো।

নীল গাই

নীলগাই বাংলাদেশে সর্বশেষ দেখা যেত ১৯৪০ সালের দিকে তেঁতুলিয়া অঞ্চলে। কিন্তু এখন আর দেখা যায় না। সুতরাং বলা যায় যে নীল গাই বাংলাদেশের একটি বিলুপ্ত প্রাণী। 



নীলগাই একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী যার বৈজ্ঞানিক নাম Boselaphus tragocamelus। এদের ষাঁড় ও গাভী প্রজনন সময় ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে পৃথকভাবে বিচরণ করে। গাভী ও ষাঁড়ের গায়ের রং আলাদা। প্রাপ্তবয়স্ক গাভীর লোম হলুদ-বাদামি আর ষাঁড়ের লোম নীল-ধূসর।

শুশুক

স্তন্যপায়ী একটি জলজ প্রাণীর নাম হলো শুশুক। বাংলাদেশে এই প্রাণীটি এখন বিপন্ন প্রাণীর তালিকাভুক্ত। সাধারণত এদের বিচরণ সমুদ্র ও সমুদ্র উপকূলে। বর্ষাকালে বড় নদীগুলো দিয়ে অনেকটা ভেতরেও চলে আসতে দেখা যায়। দুই ধরনের শুশুক পাওয়া যায় বাংলাদেশে। 



এদের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Orcaella brevirostris এবং Neophocaena phocaenoides। এরা চলে দল বেঁধে আর লাফ দিয়ে পানির উপরে ওঠে মাঝে মাঝে। এদের প্রধান খাদ্য হলো মাছ। শুশুক বিভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন- শুশুক মাছ, হউম মাছ, হচ্ছুম মাছ, শিশু বা শিশু মাছ ইত্যাদি


মিঠাপানির কুমির

Crocodylus palustris হলো মিঠাপানির কুমিরের বৈজ্ঞানিক নাম। প্রাকৃতিকভাবে আর এই কুমির বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমির একটি বিলুপ্ত প্রজাতি। বর্তমানে কয়েকটি কুমির আছে বাগেরহাটের খান জাহান আলী (র)-এর মাজারের সাথের পুকুরে। আর সাম্প্রতিক সময়ে সাফারি পার্কে পালনের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে আনা হয়েছে কয়েকটি কুমির।




প্রাপ্তবয়স্ক একটি মিঠাপানির কুমিরের দৈর্ঘ্য ৩-৫ মিটার। নদী পুকুরের মিঠা পানিতে এদের বাস। এরা সাধারণত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলে প্রবেশ করেনা। বসবাস করে দল বেঁধে। নদীর তীরে গর্ত করে যে ডিম পাড়ে তা ফোটে ৫০-৫৫ দিনে। যে অল্পসংখ্যক মিঠাপানির কুমির এখনও টিকে আছে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও বংশবৃদ্ধি প্রয়োজন জরুরিভাবে।


রাজশকুন

শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র বিশ্ব প্রেক্ষাপটেই রাজশকুন বিপন্ন একটি পাখি প্রজাতি। বাংলাদেশে একে রাখা হয়েছে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায়। পূর্বে বাংলাদেশের আবাসিক পাখি হলেও এখন আর দেখা যায় না এই Red-headed Vulture or King Vulture-দের। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিস্তৃত রাজশকুনের বৈজ্ঞানিক নাম Sarcogyps calvus



এদের মাথা লাল আর পালকের রং কালো। বাইরে থেকে বুঝতে পারবেন না কোনটি পুরুষ আর কোনটি স্ত্রী। রাজশকুনেরা একা বা জোড়বদ্ধ অবস্থায় থাকে। অন্যান্য শকুনদের মতো এদেরকে দলের সাথে দেখতে পাবেন না। মৃত পশুর দেহই এদের খাবার।

 এরা বাসা বানায় অনেক উঁচু গাছের ডালে আর ডিম পাড়ে মাত্র একটি। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোতে সময় লাগে ৪৫ দিন। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে রাজশকুন সংরক্ষিত একটি প্রাণী প্রজাতি।


ঘড়িয়াল

ঘড়িয়াল একটি সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। বাংলাদেশের অতি বিপদাপন্ন প্রাণীর তালিকায় এর অবস্থান। ভারতের উজান থেকে আসা দু'একটি ঘরিয়াল হঠাৎ হঠাৎ দেখা গেলেও ধরে নেয়া হয় যে, বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্ত এই প্রাণী প্রজাতিটি। ঘরিয়ালের বৈজ্ঞানিক নাম হলো- Gavialis gangeticus




পুরুষ ও স্ত্রী ঘড়িয়াল এক রকম নয়। পুরুষ ঘড়িয়াল আকারে বড়, দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.৫ মিটার। স্ত্রী ঘড়িয়াল দৈর্ঘ্যে ৪.৫ মিটার হয়। এদের বসবাস দ্রুত প্রবাহমান ও গভীর পানিতে।  মাছ এদের প্রধান খাদ্য।

ঘড়িয়াল প্রজনন করে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে। স্ত্রী ঘড়িয়াল ডিম পাড়ে বালুতে গর্ত করে। এক সাথে ৩০-৫০ বড় আকারের ডিম থেকে বাচ্চা বেরিয়ে আসে ৩ মাস পর।


No comments

Theme images by graphixel. Powered by Blogger.